নওগাঁয় পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বলে ৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ, যোগাযোগ বন্ধ।
নওগাঁর পোরশা উপজেলায় পাসপোর্ট করে দেওয়ার কথা বলে ৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর ‘রাজু’ নামের এক ব্যক্তি যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন মোঃ সাহিন মুন্না খোকা নামে এক ব্যক্তি। তিনি উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের মাস্টারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পাসপোর্ট করে দেওয়ার আশ্বাসে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টা ২৬ মিনিটে বিকাশের মাধ্যমে রাজু নামের ওই ব্যক্তিকে ৭ হাজার টাকা দেন তিনি। টাকা দেওয়ার পরদিন পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার বিষয়ে রাজুর সঙ্গে তার কথা হয় বলেও জানান সাহিন।
সাহিন মুন্না খোকার ভাষ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টার দিকে তিনি নওগাঁ পাসপোর্ট অফিসের সামনে গিয়ে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। এ সময় নিজের মোবাইল নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করলেও রাজু ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
পরে অন্য একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করলে রাজু কল রিসিভ করেন বলে দাবি করেন সাহিন। তবে তিনি নিজের পরিচয় দেওয়ার পরপরই ওই ব্যক্তি কলটি কেটে দেন বলে অভিযোগ করেন। এরপর ওই নম্বর থেকেও আর ফোন রিসিভ করা হয়নি বলে জানান তিনি।
সাহিন মুন্না খোকার অভিযোগ, পাসপোর্ট করে দেওয়ার জন্য টাকা নেওয়ার পর থেকেই রাজু তার সঙ্গে যোগাযোগ করছেন না। পাসপোর্টের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় টাকা ফেরত চেয়েও কোনো সমাধান পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
সাহিন মুন্না খোকা বলেন, “আমার অনেক কষ্টের টাকা তাকে দিয়েছিলাম। আমার নামে একটি পাসপোর্ট তৈরি করে বিভিন্ন দেশে ভ্রমণের স্বপ্ন ছিল। সেই আশায় তাকে টাকা দিয়েছিলাম। কিন্তু পাসপোর্ট তৈরি করে দেওয়া হয়নি। এখন ফোন করলেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।”
ভুক্তভোগী আরও দাবি করেন, স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন, রাজুর বাড়ি নওগাঁর আত্রাই এলাকায়। রাজুর বিরুদ্ধে নেশা ও জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথাও স্থানীয়ভাবে শুনেছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর নওগাঁ পাসপোর্ট অফিসের আশপাশে দালালদের সম্ভাব্য তৎপরতার বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সাহিন মুন্না খোকা। তার অভিযোগ, পাসপোর্ট করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ যেন অননুমোদিত ব্যক্তির মাধ্যমে প্রতারণা বা হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও নজরদারি প্রয়োজন।
তিনি পাসপোর্টের আবেদন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ফি সম্পর্কে সেবাপ্রার্থীদের পর্যাপ্ত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি অফিসের আশপাশে অননুমোদিতভাবে সেবার নামে অর্থ লেনদেন হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান।
সাহিন মুন্না খোকা তার ৭ হাজার টাকা ফেরত, অভিযোগটি যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা এবং ভবিষ্যতে যাতে অন্য কেউ একই ধরনের সমস্যায় না পড়েন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ‘রাজু’র বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে সংযোজন করা হবে।
তবে অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই হওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে অপরাধী হিসেবে চূড়ান্তভাবে অভিহিত করা সমীচীন নয়। বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ রবিউল ইসলাম রবি, বার্তা ও সম্পাদকীয় বিভাগ: +৮৮ ০১৭৯০৯৭৯৩১১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত