, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঋণখেলাপী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা স্হানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবেনা। ইসি : আখতার আহমেদ সাপাহারে দূর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত। নিয়ামতপুরে গরুবোঝায় ভটভটি উল্টে নিহত ১, আহত ৫ নওগাঁয় ১৬ হাজারের বেশি ফেনসিডিল ধ্বংস, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর হুশিয়ারি। নওগাঁর সাপাহারে প্রদর্শনী মৎস্য চাষীদের মাঝে মাছের খাবার ও চারা বিতরন ইসিতে আয় ব্যয়ের হিসাব জমা দিলো বিএনপি সাপাহারে জমকালো ফাইনাল ফুটবল টূর্ণামেন্ট অনুষ্ঠিত পোরশায় ঘুমন্ত অবস্থায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল তরুণের। পোরশায় বিএনপি নেতা মাইদুর খুনের মামলার আসামীদের চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ। সাপাহারে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাহমুদুল হাসানের উঠান বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ।

ইয়াবা সুন্দরী আটক :যুবসমাজ ধ্বংসের কারিগর

  • প্রকাশের সময় : ০৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • ১০১ পড়া হয়েছে

‘ইয়াবা সুন্দরী আটক : যুবসমাজ ধ্বংসের কারিগর!

বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তার স্বামী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৭ জুন) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বগুড়া সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিশিন্দারা মন্ডলপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি বসতবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় বগুড়ার একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেফতারকৃত নারী হলেন মোছাঃ ছালেহা আক্তার (৪০)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী মোঃ আব্দুস সোবাহানের সহযোগিতায় এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় তাদের নিজস্ব চার কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা বসতবাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানা যায় যে, উক্ত বাড়িতে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইয়াবার একটি চালান মজুদ রাখা হয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করলে ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ছালেহার স্বামী মোঃ আব্দুস সোবাহান (৪৫) দ্রুত বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

গ্রেফতারকৃত ছালেহা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবার উৎস, সরবরাহকারী ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে পলাতক আব্দুস সোবাহানকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়া শহর ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ সামসুল আলম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেফতারকৃত ছালেহা আক্তারকে ১ নম্বর এবং পলাতক আব্দুস সোবাহানকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ইয়াবার চালানের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।

জনপ্রিয়

ঋণখেলাপী ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা স্হানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে পারবেনা। ইসি : আখতার আহমেদ

ইয়াবা সুন্দরী আটক :যুবসমাজ ধ্বংসের কারিগর

প্রকাশের সময় : ০৫:১৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

‘ইয়াবা সুন্দরী আটক : যুবসমাজ ধ্বংসের কারিগর!

বগুড়া শহরের নিশিন্দারা এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। এ সময় তার স্বামী পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও তাকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৭ জুন) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে বগুড়া সিটি করপোরেশনের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের নিশিন্দারা মন্ডলপাড়া এলাকায় অবস্থিত একটি বসতবাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয় বগুড়ার একটি বিশেষ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।

গ্রেফতারকৃত নারী হলেন মোছাঃ ছালেহা আক্তার (৪০)। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তার স্বামী মোঃ আব্দুস সোবাহানের সহযোগিতায় এলাকায় ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের সময় তাদের নিজস্ব চার কক্ষবিশিষ্ট সেমিপাকা বসতবাড়ির বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে ৪০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানা যায় যে, উক্ত বাড়িতে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে ইয়াবার একটি চালান মজুদ রাখা হয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা অভিযান পরিচালনা করলে ঘটনাস্থল থেকে ইয়াবা উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে ছালেহার স্বামী মোঃ আব্দুস সোবাহান (৪৫) দ্রুত বাড়ি থেকে পালিয়ে যান।

গ্রেফতারকৃত ছালেহা আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং উদ্ধারকৃত ইয়াবার উৎস, সরবরাহকারী ও সম্ভাব্য ক্রেতাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে পলাতক আব্দুস সোবাহানকে গ্রেফতারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে বগুড়া শহর ও আশপাশের এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্যের অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ সামসুল আলম বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় গ্রেফতারকৃত ছালেহা আক্তারকে ১ নম্বর এবং পলাতক আব্দুস সোবাহানকে ২ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধারকৃত ইয়াবার চালানের সঙ্গে অন্য কোনো ব্যক্তি বা সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, সমাজকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষা করতে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী ও পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহল মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযানকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করা প্রয়োজন। তাদের মতে, প্রশাসনের পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগেই মাদকমুক্ত সমাজ গঠন সম্ভব।