
বজ্রপাত থেকে বাঁচতে পোরশায় আশ্রয়স্থল নির্মাণের দাবি: খোলা মাঠে ঝুঁকিতে হাজারো কৃষক
কামরুজ্জামান সরকার
পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রঘুনাথপুর পশ্চিম ডুবা মাঠে ঝড়-বৃষ্টির সময় কৃষকদের মাথা গোঁজার কোনো ঠাঁই নেই। ফলে প্রতি বছরই বজ্রপাতে প্রাণ হারাচ্ছেন কোনো না কোনো কৃষক ও গবাদিপশু।
এমতাবস্থায় বজ্রপাত থেকে বাঁচতে পুনর্ভবা নদীর আশপাশ এলাকায় সরকারি উদ্যোগে স্থায়ী ‘বজ্রপাত আশ্রয়স্থল’ (শেড) নির্মাণের জোরালো দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চাষীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিতপুর ইউনিয়নের পশ্চিম রঘুনাথপুর পশ্চিম ডুবা মাঠের কয়েক হাজার বিঘা জমিতে প্রতি বছর স্থানীয় চাষীরা হাড়ভাঙা খাটুনি করে ফসল ফলান। বিস্তীর্ণ এই মাঠে চাষাবাদের সময় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ শুরু হলে আশ্রয় নেওয়ার মতো কোনো গাছপালা বা স্থায়ী ঘরবাড়ি নেই।
কৃষকরা জানান, খোলা মাঠে কাজ করার সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হলে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে তাদের দিগ্বিদিক ছুটতে হয়। কিন্তু আশেপাশে কোনো ছাউনি না থাকায় প্রতি বছরই এখানে বজ্রপাতের ঘটনায় একাধিক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। শুধু মানুষই নয়, বজ্রাঘাতে মারা যাচ্ছে বহু গবাদিপশু-পাখি |
চাষী আজিজুল হক জানান “মাঠে কাজ করার সময় ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে আমাদের যাওয়ার কোনো জায়গা থাকে না। জীবন বাজি রেখে খোলা আকাশের নিচেই দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। উপজেলা প্রশাসনের কাছে আমাদের আকুল আবেদন—আমাদের জীবন রক্ষার্থে যেন দ্রুত এখানে আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়।”
মাঠের ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনা করে স্থানীয় ভুক্তভোগী চাষী ও এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসনের কাছে দুটি নির্দিষ্ট পয়েন্টে বজ্রপাত প্রতিরোধী ইটের তৈরি আশ্রয়স্থল নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছেন:
বিশেষ করে নিতপুর পুনর্ভবা নদীর তীরবর্তী পারঘাটি এলাকায় প্রতিদিন শত শত কৃষক ও সাধারণ মানুষ তাদের জমি চাষাবাদের জন্য যাতায়াত করেন । একইভাবে পশ্চিম রঘুনাথপুর টেকঠা পশ্চিম ডুবা বিস্তীর্ণ মাঠে সবচেয়ে বেশি চাষাবাদ হয় এবং কৃষকরা সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতের ঝুঁকিতে থাকেন। এসব জায়গায় জরুরী ভাবে একটি করে আশ্রয়স্থল নির্মাণ করা অত্যন্ত প্রয়োজন।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে দ্রুত এই দুটি স্থানে আধুনিক বজ্রপাত নিরোধক দণ্ড (লাইটিং অ্যারেস্টার) সম্বলিত আশ্রয়স্থল বা শেড নির্মাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন হাজারো কৃষকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে ফসলের মাঠে কৃষকেরা নির্ভয়ে কাজ করতে পারবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাকিবুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান,
“কৃষকদের নিরাপত্তার বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ। পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের কৃষকেরা বিস্তীর্ণ মাঠে ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে চরম ঝুঁকিতে কাজ করেন—বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে। বজ্রপাত এখন একটি অন্যতম প্রধান প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাই কৃষকদের জানমাল রক্ষায় মাঠ পর্যায়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল নির্মাণ করা সময়ের দাবি।”
তিনি আরও বলেন, “স্থানীয় চাষীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নিতপুর পারঘাটি এলাকা এবং পশ্চিম রঘুনাথপুর টেকঠা পশ্চিম ডুবা মাঠে বজ্রপাত নিরোধক ও বজ্রপাত সহায়ক বিশেষ আশ্রয়স্থল (শেড) নির্মাণের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে বা স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে কীভাবে দ্রুত সেখানে আধুনিক বজ্রপাত নিরোধক দণ্ডসহ (লাইটিং অ্যারেস্টার) স্থায়ী ইটের ভবন বা ছাউনি তৈরি করে দেওয়া যায়, সে বিষয়ে আমরা খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করব। কৃষকদের সুরক্ষায় প্রশাসন সব সময় পাশে আছে।”




















